রাইডার্সপেন

শীতে কাতর ময়মনসিংহ রাইড

ভ্রমণকাহিনীটি Riderspen এর জন্য লেখা হলো।  ২৫ শে জানুয়ারি। সকাল হল, প্রচন্ড জ্বর শরীরে। সায়মনকে ফোন দিলাম ঠাণ্ডায় কথা বলতে পারতেছে না। মিজাজ খারাপ করে ফোন রেখে দিলাম। দুপুরে আবার ফোন দিলাম “কিছু শুনতে চাই না বিকাল ৪ টায় আমার বাসার সামনে আপনাকে দেখতে চাই।” ২৪ তারিখ রাতে মাত্র সিজন ২ থেকে এসেছি। তার মধ্যে সবে মাত্র Master Cycle শপের Mustang এন্ডমন্ড চ্যালেঞ্জ শেষ হল। শরীর যেন আর চলতে চায় না। ফেব্রুয়ারি তে নতুন চাকুরির জয়েন। সায়মনও তখন মাত্র লিও ক্লাবের প্রোগ্রাম শেষ করে এসেছে। চিন্তা ভাবনা ছাড়াই ট্রিপের সিদ্ধান্ত। বিশাল প্যানিয়ার, ক্যামেরা, ট্রাইপড, তাঁবু, পাতিল নিয়ে রওনা দিলাম যেন যুদ্ধে যাচ্ছি। জয়দেবপুর পৌঁছলাম সন্ধার পর। ২ জনেরই জ্বর। সায়মন কথা বলতে পারে না। গলা ভাঙ্গা। প্যাডেল চলছে, জানি না কোথায় যাচ্ছি।

ময়মনসিংহ হাইওয়ে নতুন তখন। গাড়ির গতি রকেটের কাছাকাছি। চারিদিকে অন্ধকার, তার উপর আবার শীত জেকে বসেছে। ত্রিশালে রাতের খাবার আবার রওনা। মুক্তাগাছায় পৌঁছলাম রাত ৩ টায়। তাঁবু টাঙ্গাতে ইচ্ছা করল না, মসজিদে পেয়ে সেখানেই ঘুম দিলাম। ভোরে বের হয়ে জামালপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। ভোরের প্রচন্ড শীতে জড়তা কাটাতে পারছি না কোনভাবেই। সাইকেলে বসেই একটার পর একটা সিগারেট চলছে। সকাল দশটার দিকে পথে এক প্রাইমারি স্কুলে দেখলাম বাৎসরিক প্রোগ্রাম চলছে। বসে গেলাম ওখানে। সত্যি ছেলেবেলা কতই না ভাল ছিল। সাইকেল না থাকলে হয়ত এই দৃশ্য কখনো উপভোগ করতে পারতাম না। ঘন্টাখানেক থেকে বের হয়ে গেলাম।

জামালপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজের সামনে কিছুক্ষন বিশ্রাম চলল। আর চলল আমাদের ভাবসাব grin emoticon grin emoticon । আস্তে আস্তে মেয়ে মানুষের আনাগোনা কমে যাওয়ায় রওনা দিলাম। দুপুর ২ টা। খুধায় পেটে লেন্স আরমস্ট্রং মুন্ডু মারছে যেন। ঢুকে গেলাম মুক্তাগাছা-জামালপুর রোডের পাশে এক বাড়িতে। এক মেয়ে আসল, বললাম রান্না ঘর ব্যবহার করতে চাই। অনুমতিও পেলাম। কিছুক্ষন পর দেখলাম পুরো বাড়িতে মাত্র ২ জন মেয়ে মানুষ আর আমরা ২ হ্যান্ডসাম যুবক। ন্যুডলস এর পানির সাথে সাথে গলার পানিও শুকিয়ে গেল। রান্না করা স্যুপ ন্যুডলস নিয়ে বাড়ির বাইরের উঠানে বসে খাচ্ছি। পাশের বাড়ির এক খালা চলে আসল। এরপর চলল আমাদের উনুনের গল্প। যেন নিজের গ্রামের বাড়িতে বসে গল্প করছি।

খাবার শেষ করে ব্রহ্মপুত্র এর পার ধরে পৌঁছে গেলাম জামালপুর। দেরি না করে চা খেয়েই রওনা দিলা শেরপুর। এরপর শেরপুর হয়ে সন্ধ্যায় পৌঁছে গেলাম ঝিনাইগাতি। রাতে আশ্রয়ের পালা এবার। এ বাড়ি ও বাড়ি কোথাওই তাঁবু খাটানোর অনুমতি পেলাম না। এর অবশ্য একটা বিশেষ কারন ছিল। প্রত্যেক বাড়িতেই মাশাল্লাহ মাইট্টা হুরের কমতি ছিল না। tongue emoticon এই মুহূর্তে দেবতা হয়ে আসল নটরডেমের এক ছাত্র তার সাথে সে একজন বিডিসির মেম্বার। রাতে ঘুম দিলাম স্থানীয় এক অফিসে। পরদিন সকাল রেডি হয়ে সাইকেল নিয়ে রাস্তায় এলাম সায়মনের গলার আওয়াজ পাচ্ছি। কিন্তু কাউকে দেখছি না।

কুয়াশা আর কুয়াশা। এর মধ্যে চলতে লাগলাম। নিচে গেঞ্জি তার উপর জারসি তার উপর গেঞ্জি কাপরের হুডি, তার উপর জ্যাকেট। শীত কাহাকে বলে। সেখান থেকে বর্ডার রোড ধরে রাজিবপুর হয়ে কুড়িগ্রাম। সেখান থেকে চর পার হয়ে নৌকায় গাইবান্ধা। গাইবান্ধায় এক কোচিংএ রাত্রি যাপন। পথে স্থানীয় সব প্রসিদ্ধ খাবার গলধিঃকরন। গ্রামের সাধারন মানুষের সাথে আড্ডা। পথে পথে আমার স্বভাবসুলভ নতুন বন্ধু বানানো আর সেই সাথে সায়মনের “বাদ যাবে না একটি নারী” স্লোগানে একের পর এক মেয়ের সাথে বন্ধুত্ব। গাম্য বিয়েতে অংশ নেয়া থেকে শুরু করে সব কিছুই করেছি ঐ ৬ টি দিন।

পথে বগুরা ঘুরে যমুনা ব্রীজ থেকে খালি পকেটে ট্রাকে করে ঘরে ফেরা ছিল আমাদের শেষ এডভেঞ্চার। ও হ্যা আমরা কিন্তু ট্রাকের ড্রাইভারের শ-খানেক টাকাও নামিয়ে ছেড়েছিলাম। আসলে সাইকেল না থাকলে হয়ত এরকম অনেক কিছুই সম্ভব হত না। আর এই ট্রিপে আমাদের সর্বমোট খরচ হয়েছিল ২ জনের মিলিয়ে মাত্র ২২০০ টাকা। জী হ্যা ২ হাজার ২ শত টাকা। একটি ভ্রমনে সফলতা অনেকাংশেই নির্ভর করবে আপনার ট্রিপ-মেটের উপর।

আমি ভাগ্যবান যে কিছু ভাল মানের ট্রাভেলার এর সাথে আমার পরিচয় আছে। এবং তাদের সাথে ঘুরাঘুরির সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ এত কষ্ট করে এসব ফালতু গল্প পড়ার জন্য। Attn: Riderspen এর এডমিন দের কড়া নির্দেশ গল্প অবশ্যই ৫০০ শব্দের মধ্যেই হতে হবে। তবু কিছু বেড়ে গেছে। সবাই ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন। আসলে এরকম একটি ট্রিপ লিখে কিনবা ছবিতে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। ধন্যবাদ সবাইকে।


# লিখেছেনঃ Capsule Masum II
# রাইডার্সপেন বাইকট্যুর রাইটিং প্রতিযোগিতা ২০১৬

Leave a Comment