রাইডার্সপেন

সাইকেলে ২৪ ঘন্টায় ৫০০ কিলোমিটার!

প্রতিটা সাইক্লিস্ট এর মাঝে থাকে কিছু করে দেখানোর পাগলামী। ঠিক তেমনি আমার মাঝেও ছিল কিছু করে দেখানোর পাগলামী। ২০১৫ সালে মা’র অসুস্থতার কারনে আমি ভেলোস রেসিং টিম ছেড়ে দিনাজপুর থেকে ঢাকা আমাদের বাসায় চলে আসতে হয়। আমার চলে আসার পর মা কিছুদিন এর মধ্যে সুস্থ হয়ে যান। কিন্তু আমার মন অনেক দিন খারপ ছিল অনেক দিন। কারন, এত বড় একটা সাইক্লিং টিমে  চান্স পাওয়ার জন্য মানুষ কত চেষ্টাই না করে। আর আমি নিজে থেকে টিম ছেড়ে চলে আসছি। একদিন হঠাৎ রাত ৮.৩০ এতে মাথায় পাগলামী ভর করলো। ২৪ ঘন্টাতে ৫০০ কিলোমিটার সাইক্লিং করার।

কিন্তু আমার কাছে এখন হেলমেট, সাইকেল এর লাইট কিছুই নাই। ভেলোস টিমে যাওয়ার ২ দিন আগে সবকিছু বন্ধুদের গিফট করে দিয়েছিলাম। তাই এই অল্প সময় এর মধ্য এক বড় ভাই এর কাছ থেকে হেলমেট আর এক বন্ধু এর কাছ থেকে লাইট এনে  ৯.৫০ এর মধ্য সাইকেল নিয়ে বের হয়ে পরলাম ৫০০ কি. মি. সাইক্লিং করার জন্য।

সাইকেলে ৫০০ কিলোমিটার - রাইডার্সপেন

আমার বাসা কুড়িল ৩০০ ফিট থেকে প্রথমেই এক টানে ৩৫+ কি. মি. যাওয়ার পর সাইকেল এর এক চাকা লিক হইয়া যায়। তখন রাত বাজে ১১.৩০ মিনিট এর মত। তাড়াতাড়া বাইপাস রোড থেকে সরে পাশে থাকা এক কারখানার গার্ডরুমের কাছে বসে খুব তাড়াতাড়ি সাইকেল এর টিউব চেঞ্জ করে ফেলি।  গার্ড আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখছিলো। সাইকেল নিয়ে তারপর আমার যাত্রা শুরু। এর পর এক টানে ফেনী চলে গেলাম। কুয়াশা এর কারনে রাস্তা ভালভাবে দেখা যাচ্ছিলো না।তার উপর আবার গাড়িগুলো যেভাবে চালাচ্ছিলো, ভয়ংকর। তাই আর কোন রিক্স নিই নি। বাইপাসের পাশের একটা খোলা চায়ের দোকানে থামি।সেখানে ৪ জন টহল পুলিশ বসে ছিলো। তারা আমাকে দেখে পুরাই অভাক। তার পর তারা আমার প্লান সম্পকে শুনলো। তারা আমার এই রাইড এর প্লান শুনে তো খুবই অবাক। তারপর তাদের সাথে চা, বিস্কুট, কলা খেতে খেতে প্রায় ১ ঘন্টা গল্প হলো। আমার নাস্তার বিল কিন্তু পুলিশ ভাইয়েরা দিয়েছে। আমাকে দিতে দেয় নি।

সাইকেলে ৫০০ কিলোমিটার - রাইডার্সপেন

কুয়াশা কমে যাওয়াতে আমি আবার রাইড শুরু করলাম। কিছু দূর সামনে যাওয়ার পর কুমিল্লা এর দিকে আবার বেক করিলাম। কুমিল্লা থেকে আবার ফেনী এর দিকে। তারপর কুমিল্লা এসে কুমিল্লার বিখ্যাত রসমালাই খেয়ে শরীরের শক্তি বাড়ালাম! তারপর আবার এক টানে দাউদকান্দি ব্রিজের আগে একটা দোকান এর সামনে থেমে কিছু খেলাম। তার পরে খাওয়া শেষে একটানে হাতিরঝিল গিয়া ২ – ৩ ল্যাপ মেরে ক্যাফে সাইক্লিষ্ট -এ গিয়ে ভুনা খিচুরি আর জুস খেলাম। আর সেখানে পাওয়া ২ জন সাইকেলিস্ট বন্ধুদের সাথে প্রায় ৪০ মি. এর মত আড্ডা দিলাম। সেই বন্ধুরাই বললো,  মাত্র ৪০০ কি. মি. হয়েছে। আরো ১০০ কি. মি. বাকি। তাড়াতাড়ি এখন আবার সাইকেল চালানো শুরু করো। ওদের কথামতো সেখান থেকে হাতিরঝিল গিয়ে ল্যাপ দিতে শুরু করি। ২ ল্যাপ দিই আর টিম বিডিসি এর টি-পয়েন্ট-এ  গিয়ে অলটাইম রুটি আর চকলেট দুধ খাই।

হাতিরঝিলে ৫০০ কি. মি. রাইড শেষ করে বাসায় যখন পোছাই, তখন ৫১০ কি. মি. সম্পন্ন হয়ে গেছে। সময় রাত ৯.৩০ মিনিট। ৫১০ কি. মি. সাইকেল চালাতে আমার যতোটুকু কষ্ট না হয়েছে,  তারথেকে দ্বিগুণ কষ্ট হয়েছে রাইড শেষ করে সাইকেল নিয়া বাসার ৫ তলায় উঠতে। পুরাই অস্থির একটা রাইড ছিল সেই ২৪ ঘন্টা!


# লিখেছেনঃ মাহাদী হাসান
# ছবিঃ লেখক
#  এই রাইডার নিয়মিত প্রশিক্ষণ পাওয়া রেসিং টিমের সদস্য। তার সম্পর্কে জানতে অথবা তার এই রাইড সম্পর্কে কোন বক্তব্য থাকলে আমাদের জানাতে পারেন। আমরা আপনাদের বক্তব্য, জিজ্ঞাসা পৌঁছে দেবো লেখকের কাছে। ধন্যবাদ!

Leave a Comment