রাইডার্সপেন

ফ্লুরিয়ানের বাংলাদেশ ভ্রমণ

বাংলাদেশ থেকে ইন্ডিয়া প্রবেশ করতে চাইছেন একজন বিদেশি সাইক্লিস্ট বাইকট্যুরার। ফ্লুরিয়ান নামের জার্মান এই সাইক্লিস্ট বিশ্বভ্রমণের একটি পর্যায়ে ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং আবার ইন্ডিয়ায় ফিরছেন। কিন্তু, ইমিগ্রেশনে গিয়ে ঝামেলায় পড়লেন তিনি। বাংলাদেশী বর্ডার অফিসার তাকে জানালো যে, তাকে ৩০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স পরিশোধ করতে হবে। সাধারণ পদ্ধতি হলো ব্যাংকে টাকা পরিশোধ করে সেই রিসিট দেখাতে হবে বর্ডার পোস্টে। কিন্তু ফ্লুরিয়ানের জন্য এটি অনেক বড়ো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, সেজন্য তাকে আবার ২০ কিমি ফেলে আসা রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে টাকা জমা দিয়ে আসতে হবে। আর, তার কাছে সে পরিমাণ টাকাও নেই! বর্ডার আর ঘন্টাখানেক পর বন্ধ হয়ে যাবে। ফ্লুরিয়ান ভেবে পাচ্ছিলেন না কী করবেন।

রুম থেকে বাইরে এসে একজায়গায় বসলেন তিনি। সেখানে কিছু ট্রাক ড্রাইভার আড্ডা দিচ্ছিলো। কিছু ছোট বাচ্চারা ঘোরাফেরা করছিলো। এমন সময় একজন সম্ভ্রান্ত চেহারা ময়লাটে কোট পড়া ব্যক্তি জানতে চাইলেন ফ্লুরিয়ানের সমস্যা কি? ফ্লুরিয়ান জানালেন যে, তার কাছে ট্রাভেল ট্যাক্স দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা নেই। আশেপাশে আরো মানুষজন জড়ো হয়েছে ততোক্ষণে। একজন বর্ডার কর্মকর্তাও সেখানে আছেন। তারা নানা প্রশ্ন করছিলো কৌতুহলী হয়ে। কোত্থেকে এসেছে? কোথায় যাবে? একা এসেছে নাকি? বিবাহিত কিনা? তার বন্ধুবান্ধব কেউ নেই সাথে? মুসলিম কিনা? কয়জন ভাইবোন ইত্যাদি।

ফ্লুরিয়ান জানালেন, “এরপর অবিশ্বাস্য একটি ঘটনা ঘটলো। সম্ভ্রান্ত চেহারার লোকটি তার মানিব্যাগ থেকে ১০০ টাকা বের করলেন। বাচ্চারা তাদের পকেট ঘেটে ১০ টাকার কিছু দুমড়ানো মুচড়ানো নোট বের করলো। ট্রাক ড্রাইভাররাও টাকা কালেকশন শুরু করলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৩০০ টাকা জমা হয়ে গেলো। এবং, সেই টাকা আমার হাতে জোর করে গুঁজে দেয়া হলো!”

পৃথিবীর অন্যতম দরিদ্র একটি দেশের মানুষেরা এমন একজনের জন্য টাকা কালেকশন করলো, যে ব্যক্তি একটি ধনী দেশের নাগরিক। তাকে বর্ডার ক্রস করার জন্য সাহায্য করতে এই চেষ্টা! কোন ধরণের কিছু পাওয়ার আশা ব্যাতিত, কোন শর্ত ছাড়া শুধুমাত্র আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থেকে তারা এই কাজটি করলো!
“হ্যাভ এ নাইস জার্ণি ব্রাদার, বর্ডার কর্মকর্তার কন্ঠ ভেসে আসছিলো পেছন থেকে। আমি তখন সাইকেলে প্যাডেল করছি ইন্ডিয়ার দিকে, তখনো আমার অবাকবোধ কাটে নি! কী অদ্ভূত এই শর্তহীন ভালোবাসার অধিকারী মানুষেরা! নিজেদের জীবন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, অথচ, অপরিচিত একজনের জন্যও ভালোবাসা কমতি নেই!”